রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
logo

সাভারে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ: আটক ৩

সাভারে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ: আটক ৩

সাভার (ঢাকা), ০৫ মে, এবিনিউজ: ঢাকার অদূরে সাভারে এক নারী পোশাক শ্রমিককে বাসা থেকে তুলে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে নামা গেন্ডা ময়লার মোড়ের মহল্লা থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

এ ছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত বাকীদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতরা হলো, সাভার পৌর এলাকার নামাগেন্ডা ময়লার মোড় এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে সোহাগ (৩২), বারেক (২৮) ও মামুন (৩০)।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী শ্রমিক নামাগেন্ডা ময়লার মোড় এলাকার ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় আনলিমা গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতো। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার কদমতলী গ্রামে।

গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবা জানান, আমার মেয়ে শুক্রবার রাত ৮টায় কারখানা ছুটির পর বাসায় ফিরছিলো। পথে মেয়েটি টিবিসি নামক একটি ইটভাটার সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা ৮-১০ জন যুবক তার গতিরোধ করে।

এসময় ওই বখাটেরা মেয়েটির মুখ চেপে ধরে পাশের একটি পরিত্যাক্ত বাউন্ডারির ভিতরে তুলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে আমার মেয়ে বারেক নামে একজনকে চিনতে পেরে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এঘটনায় বারেক পরবর্তীতে তাকে মোবাইল করে ডাকলেই সে যেন চলে আসে এমন শর্তে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়।

এছাড়া বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ও পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, আমি গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার পর মেয়ে বাসায় না আসায় খুঁজতে থাকি। সে গভীর রাতে বাড়ি ফিরলে তার পোশাক ও শরীরের অবস্থা দেখে আমার সন্দেহ হয়। বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানিয়ে মেয়ের সাথে কথা বলতে বলি। একপর্যায়ে মেয়ে তার মায়ের কাছে সবকিছু খুলে বলে। এরপর আমরা বিষয়টি নিয়ে আত্মীয়স্বজনের সাথে কথা বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন জনকে আটক করে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানায়, প্রাথমিকভাবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিন বখাটেকে আটক এবং ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরকে গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই ইবনে ফরহাদ বলেন, গণধর্ষণের শিকার ওই পোশাক শ্রমিককে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে। এঘটনায় জড়িত আরও ৩ জনকে আটক করার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আজ সকালে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন ওই পোশাক শ্রমিক। দুপুরে ওই ৩ বখাটে মামুন, সোহাগ এবং বারেককে ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রিমান্ড আবেদন করে পাঠানো হয়। বিকালে তাদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।

এবিএন/সোহেল রানা খান/জসিম/তোহা

ad

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত